আদর্শ পরিবার ও পারিবারিক জীবন | পিডিএফ ডাউনলোড | মোটিভেশন ক্লাশ

ভূমিকাঃ সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় পারিবারিক জীবনের প্রাথমিক শর্ত হলো বিয়ে। বিয়ে হচ্ছে একটি পবিত্র বন্ধন। এটা কারও অজানা নেই, একজন পুরুষ এবং একজন নারীর একত্রে জীবনযাপনে ধর্ম এবং রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যে বন্ধন স্থাপিত হয়, তারই নাম বিয়ে। বিয়ে-বন্ধন কেবল গতানুগতিক বা কোনো সামাজিক প্রথা নয়, এটা মানবজীবনের ইহকাল ও পরকালের মানবীয় পবিত্রতা রক্ষার জন্য আল্লাহ পাকের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। সুতরাং এটা যে কেবল পার্থিব জীবনের গুরুত্বই বহন করে এমন নয়, বরং পারলৌকিক জীবনের জন্যও অনেক গুরুত্ব বহন করে।

উদ্দেশ্যঃ আজকের ক্লাসের উদ্দেশ্য হল সকলকে বৈবাহিক জীবন এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বিষয়ে প্রেষণা প্রধান করা।

আলোচনার সুবিধার্থে আজকের ক্লাশকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছিঃ

ক) বিবাহপূর্ব প্রস্তুতি / সঠিক সঙ্গী নির্বাচন

খ) বৈবাহিক জীবন / দাম্পত্য জীবন

গ) পারিবারিক জীবন

ক। বিবাহপূর্ব প্রস্তুতি / সঠিক সঙ্গী নির্বাচন

বিবাহ পূর্ব প্রস্তুতির মধ্যে অন্যতম বিষয় হল সঙ্গী নির্বাচনে সতর্কতা। কেননা এই নির্বাচন একবার ভুল হলে আজীবন এর মাশুল দিতে হবে। বিবাহপূর্ব প্রস্তুতি ও সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলঃ

১। হাদিসের নীতিমালাঃ বিবাহের ক্ষেত্রে কেমন কনে বাছাই করতে হবে এই বিষয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদিস থেকে জানতে পারি,

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا ، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬)

‘কুফু’ সমতা রক্ষা করাঃ বিবাহের ক্ষেত্রে সমতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। বর্তমানে অনেকেই এই বিষয়ে অবহেলা করার কারনে পারিবারিক জীবনে নেমে আসে নানা প্রকার অশান্তি। বিবাহে কুফুর বিষয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আদেশ,

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَخَيَّرُوا لِنُطَفِكُمْ وَانْكِحُوا الْأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ভবিষ্যত বংশধরদের স্বার্থে উত্তম মহিলা গ্রহণ করো এবং সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিবাহ করো, আর বিবাহ দিতেও সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৯৬৮)

বয়সঃ দাম্পত্য জীবনে সুখের একটি অন্যতম শর্ত হল বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের প্রার্থক্য। অনেকে এই বিষয়ে নানা মতামত ব্যক্ত করলেও বিয়ের ক্ষেত্রে সম-বয়স এবং বয়সের বড় ধরণের দূরত্ব দুইটিই ক্ষতিকর। সমবয়সী হলে উভয়ের মাঝে সম্মান এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক খুব কমই দেখা যায়। আবার বয়সে দূরত্ব বেশি হলে উভয়ের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো হয়না। একে অন্যের মানসিক অবস্থা, চাহিদা অনুধাবন করতে পারেনা। তখনই সংসারে শুরু হয় নানা অশান্তি।

পাত্রী নির্বাচনে 4B  

B blood (স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ জানা)

B Brain (মেধাবী সঙ্গী বাছাই করা)

B Bank (আর্থিক অবস্থার দিকে খেয়াল করা।)

B Beauty (সঙ্গীর সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল করা। )

মহরের নির্ধারণে সতর্কতাঃ বিবাহের ক্ষেত্রে মহর একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু কিছু যায়গায় মহরের টাকা এত বেশি নির্ধারণ করা হয় যা পরিশোধ করা পাত্রের পক্ষে অনেক কঠিন হয়ে যায়। যা ইসলাম সম্মত নয়। মহর আদায়ের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ نِحۡلَۃً ؕ فَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡہُ نَفۡسًا فَکُلُوۡہُ ہَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا

নারীদেরকে খুশী মনে তাদের মাহর আদায় কর। তারা নিজেরা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা সানন্দে, স্বচ্ছন্দভাবে ভোগ করতে পার। (আন নিসা - ৪:৪)

বিয়েতে অপচয় না করাঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে বিয়ে যত সহজ এবং স্বল্প ব্যয়ে হয়; সেই বিয়ে ততই শান্তি ও বরকতময় হয়।(মিশকাত)

খ) বৈবাহিক জীবন / দাম্পত্য জীবন

দাম্পত্য জীবনের সুখ অনেক বিষয়ের উপরে নির্ভর করে। কয়েকটি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ

১। পারস্পরিক বোঝাপড়াঃ সুখি দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অন্যজনকে ভালোভাবে না বুঝলে। অন্যজনের মন খারাপের কারণ না জানলে সে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগে থাকা স্বাভাবিক।

২। পারস্পরিক শ্রদ্ধা/ ভালোবাসা/ সম্মানঃ স্বামী- স্ত্রী একজনের প্রতি অন্যজনের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান থাকা অপরিহায্য। কেননা  শ্রদ্ধা সম্মান না থাকলে সেখানে আনুগত্যের প্রশ্নই আসেনা। আর যেখানে আনুগত্য নাই সেখানে অশান্তি লেগে থাকাই স্বাভাবিক।

৩। ধৈর্য্যধারন, ক্ষমাঃ দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য্য এবং ক্ষমার কোন বিকল্প নাই। একজনের আচরণে আরেকজন ধৈর্য্যধারণ করতে না পারলে তখনই সংঘাত হা অশান্তি শুরু। ছাড় দেয়ার মন মানসিকতা ছাড়া সুখি পারিবারিক জীবন কল্পনা করা অসম্ভব।

৪। উত্তম আচরণঃ স্বাভাবিক ভাবেই ভালো আচরন, উত্তম আচরণ মানুষের স্বাভাবিক গুণ। যেকোন মানুষ অন্যজনের নিকট উত্তম আচরণ আশা করে। আর যার সাথে সারা জীবন এক সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সাথে উত্তম আচরণ না করে একসাথে থাকা কিভাবে সম্ভব? আল্লাহ তাআলা বলেন,

 وَعَاشِرُوۡہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ

আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন কর। (আন নিসা ৪:১৯)

প্রিয়নবী (সাঃ) তার স্ত্রীদের সাথে হাসি তামাশা করতেন, রাতের অন্ধকারে দৌঁড় প্রতিযোগীতা করতেন। তাদের ঘরের কাজে সাহায্য করতেন।

৫। স্ত্রীর ভরণপোষণঃ সামর্থ অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব। পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করাও এক ধরণের সদকাহ।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي رَقَبَةٍ وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ ‏"‏ ‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, একটি দীনার গোলাম আযাদ করার জন্য এবং একটি দীনার মিসকীনদেরকে দান করলে এবং আর একটি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করলে। এর মধ্যে (সাওয়াবের দিক থেকে) ওই দীনারটিই উত্তম যা তুমি পরিবারের লোকদের জন্য ব্যয় করলে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২০১)

৬। উপহার বিনিময় করাঃ দাম্পত্য জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মূহুর্ত গুলো দাম্পত্য জীবনের সুখ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি পাওয়ার একটা অন্যতম পদ্ধতি হল একে অন্যের মাঝে উপহার বিনিময়। উপহার যত ছোটই হোক এর দ্বারা মানুষ আনন্দিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «تَهَادُوا تَحَابُّوا»

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা পরস্পর উপহারাদি বিনিময় করো, তোমাদের পারস্পরিক মহব্বত সৃষ্টি হবে। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫৯৭)

গ) পারিবারিক জীবন

পারিবারিক জীবন বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে পরিবারের সকলকে নিয়ে আমাদের  বসবাসের বিষয়টি। পারিবারিক জীবনে সুখ লাভ করতে হলেও আমাদেরকে কিছু বিষয় অনুস্মরণ করতে হবে।

১। পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ আমাদের সমাজে অনেকেই পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদেরকে মূল্যায়ন করে না। অথচ, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) স্বীয় স্ত্রীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের ছোটরাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে। আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নং আয়াতে বলেন,

وَشَاوِرۡہُمۡ فِی الۡاَمۡرِ ۚ

অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপনি পরামর্শ করুন।

২। জীবন সঙ্গীর পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব পালনঃ একটি সুন্দর পারিবারিক জীবন পরিচালনার জন্য পরিবারের সাথে সংযুক্ত অন্য পরিবারের সদস্যদের সাথেও ভালো আচরণ করা আবশ্যক। অর্থাৎ, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি সহ স্ত্রীর আত্মীয় স্বজনদের সাথেও ভালো আচরণের দ্বারা আপনার পিতামাতা আত্মীয় স্বজনের প্রতিও আপনার স্ত্রীর মনে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।

৩। পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত করাঃ পরিবারের সদস্যদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর, ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা স্বামীর দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট কাঙ্ক্ষিত আচরণ আশা করা অসম্ভব।

৪। সাধ্যমত ব্যয় করাঃ পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধ্যমত ব্যয় করা উচিত। এক্ষেত্রে যেমনি মুক্ত হস্ত হওয়া যাবেনা তেমনিভাবে কৃপণতা করাও যাবেনা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَجۡعَلۡ یَدَکَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِکَ وَلَا تَبۡسُطۡہَا کُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

(কৃপণতাবশে) নিজের হাত ঘাড়ের সাথে বেঁধে রেখ না এবং (অপব্যয়ী হয়ে) তা সম্পূর্ণরূপে খুলে রেখ না, যদ্দরুণ তোমাকে নিন্দাযোগে ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়তে হবে। (বনী-ইসরাঈল ১৭:২৯)

৫। ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করাঃ সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা।  সন্তানের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা পিতামাতার দায়িত্ব।  কেননা, ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করা ফরজ। আর ধর্ম, নৈতিকতা শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে এই সন্তান সন্ততি একদিন পিতামাতার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

৬। সকলের অধিকারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকাঃ আমাদের সমাজে দেখা যায় অনেকেই স্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে পিতামাতার মনে কষ্ট দেয়। অনেকেই পিতামাতা এবং স্ত্রীকে এক সাথে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হলে পরিবারে অশান্তি দেখা দেয়। অনেকে আবার একাধিক সন্তানের মাঝে অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করতে পারেন না। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। সন্তান একাধিক থাকলে সকলের অধিকারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।

৭। সন্তানের সম্মুখে অন্তরঙ্গ না হওয়াঃ অনেক স্বামী স্ত্রী আছেন তারা সন্তানকে ছোট মনে করে তাদের সামনে অন্তরঙ্গ আচরণ করেন যা কচি বাচ্চার মনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। হাদিস শরিফে রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

«مُرُوا أوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاةِ وَهُمْ أبْنَاءُ سَبْعِ سِنينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أبْنَاءُ عَشْرٍ، وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ في المضَاجِعِ».

 ১০ বছর হলেই ছেলেদের বিছানা আলাদা করে দিতে বলেছেন। বাসায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং আলাদা কক্ষ থাকলে ১০ বছরের আগেও আলাদা করে দেয়ায় বাঁধা নাই। তবে কন্যা সন্তানরা যেহেতু ছেলে সন্তানের তুলনায় আগে প্রাপ্ত বয়স্ক হয় তাই তাদেরকে আরো আগেই আলাদা করে দেয়া উচিত।

সমাপনীঃ জাতিসংঘ প্রতি বছর ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস পালন করে। তারা পরিবার বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং শান্তিময় জীবন লাভের স্বপ্ন নিয়ে এ দিবসের নানা আয়োজন করে। অথচ আমাদের প্রাণের ধর্ম ইসলাম শান্তিময় জীবন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য শেখানোর জন্য দিয়েছে পরিবার ব্যবস্থা কোরআনের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করলেই কেবল আদর্শ পরিবার গঠন করা সম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর নির্দেশিত পথে আমাদের পরিবারগুলো গঠন করার তওফিক দিন।

পিডিএফ ডাউনলোড

হজ্জের আহকাম, গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্জের আহকাম, গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্জ্বের গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্জ ইসলামের অন্যতম রুকন ও ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এটি একটি ফরয ইবাদত। যা সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উপর ফরয। এর গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি ফযীলতও সীমাহীন। পৃথিবীতে যত নেক আমল রয়েছে তন্মধ্যে হজ্জ শ্রেষ্ঠতম। রসূলুল্লাহ (সাঃ) অন্য সকল আমলের উপর হজ্জের মর্যাদাকে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের দূরত্বের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ্জ পালনকারীকে গুনাহমুক্ত নবজাতকের ন্যায় বলা হয়েছে। কবুল হজ্জের পুরস্কার জান্নাত। হজ্জের প্রতিটি কর্ম সম্পাদনের জন্য রয়েছে পৃথক ফযীলত ও মর্যাদা। এই ইবাদতের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম একত্রিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। কুরআনের ভাষায়,

فِیۡہِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبۡرٰہِیۡمَ ۬ۚ وَمَنۡ دَخَلَہٗ کَانَ اٰمِنًا ؕ وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا ؕ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ

তাতে আছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, মাকামে ইবরাহীম। যে তাতে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। কেউ (এটা) অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্ব জগতের সমস্ত মানুষ হতে বেনিয়ায। (আলে ইমরান ৩:৯৭)

এটিই হজ্জ ফরয হওয়ার মূল দলীল। তিনি আরো বলেন,

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ

আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ কর। কিন্তু যদি তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হও, তাহলে যা সহজলভ্য হয়, তাই কুরবানী কর  (বাক্বারাহ ২:১৯৬)

এ আয়াতটি হজ্জ ফরয হওয়ার পাশাপাশি ওমরাহ ফরয হওয়ারও দাবী রাখে, যে ব্যাপারে অধিকাংশ ছাহাবী ও ওলামায়ে কেরাম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

اِنَّ الصَّفَا وَالۡمَرۡوَۃَ مِنۡ شَعَآئِرِ اللّٰہِ ۚ فَمَنۡ حَجَّ الۡبَیۡتَ اَوِ اعۡتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡہِ اَنۡ یَّطَّوَّفَ بِہِمَا ؕ وَمَنۡ تَطَوَّعَ خَیۡرًا ۙ فَاِنَّ اللّٰہَ شَاکِرٌ عَلِیۡمٌ

নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তিই বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে বা উমরা করবে তার জন্য এ দুটোর প্রদক্ষিণ করাতে কোনও গুনাহ নেই। কোনও ব্যক্তি স্বত:স্ফূর্তভাবে কোনও কল্যাণকর কাজ করলে আল্লাহ অবশ্যই গুণগ্রাহী (এবং) সর্বজ্ঞ। (আল বাকারা ২:১৫৮)

অন্যত্র তিনি বলেন,

وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ، لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ-

আর তুমি মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হতে। যাতে তারা তাদের (দুনিয়া ও আখেরাতের) কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হতে পারে এবং রিযিক হিসাবে তাদের দেওয়া গবাদিপশুসমূহ যবেহ করার সময় নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তাদের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে (সূরা হজ্জ ২২:২৭-২৮)

অত্র আয়াতসমূহে হজ্জ ফরয হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়েছে।

হাদীছের আলোকে হজ্জের গুরুত্ব

হজ্জের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হাদীছ নিম্নে পেশ করা হল

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بُنِىَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ. متفق عليه-

ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপরে প্রতিষ্ঠিত (১) তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা এ মর্মে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল (২) ছালাত কায়েম করা (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) হজ্জ সম্পাদন করা ও (৫) রামাযানের ছিয়াম পালন করা (বুখারী হা/৮; মুসলিম হা/১৬; মিশকাত হা/৪)

জীবনে কয়বার হজ্জ্ব আবশ্যক

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ سَأَلَ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ! الْحَجُّ فِىْ كُلِّ سَنَةٍ أَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ : بَلْ مَرَّةً وَاحِدَةً فَمَنْ زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ-

ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আকরা বিন হাবেস নবী করীম (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কি প্রতি বছর ফরয না জীবনে একবারই ফরয? তিনি বললেন, না বরং হজ্জ জীবনে একবার ফরয। যে অধিক করবে তা তার জন্য নফল হবে আবুদাউদ হা/১৭২১; ইবনু মাজাহ হা/২৮৮৬;আহমাদ হা/২৬৪২; দারেমী হা/১৭৮৮)

হজ্জ্ব যাদের উপর আবশ্যক

وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا ؕ

মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। (আলে ইমরান ৩:৯৭)

হজ ফরজ হওয়ার শর্ত

এক. মুসলমান হওয়া।

দুই. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া।

তিন. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া।

চার. স্বাধীন হওয়া।

পাঁচ. সামর্থ্য থাকা

জানা থাকা উচিত যে, অনেক ক্ষেত্রে কারও ওপর জাকাত ফরজ না হলেও হজ ফরজ হতে পারে। হজ ও জাকাতের ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য থাকা আবশ্যক। তবে হজ ও জাকাতের কিছু পার্থক্য রয়েছে। জাকাতের সঙ্গে নিসাবের সম্পর্ক। যে পরিমাণ অর্থ থাকলে জাকাত ফরজ হয়, তাকে নিসাব বলে।

সামর্থ্যবান যেভাবে বিচেচিত হয়

নিজের দেশ বা ভূমি থেকে মক্কায় গিয়ে আবার ফিরে আসা পর্যন্ত সামর্থ্য থাকলে, হজ ফরজ হয়। কেউ যদি সম্পদ অথবা স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে হজে যায়; আবার হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবন নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ হয়। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫১৬)

হজের কাজসমূহ

চারটি কাজ করলে স্বাধীন ব্যক্তির হজের ফরজ বিশুদ্ধভাবে পালিত হয়।

এক. ইহরাম।

দুই. ইসলাম।

এ দুটি হলো হজের শর্ত। অতঃপর হজের অপর দুই ফরজ পালন করা।

তিন. জিলহজের নবম তারিখে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর থেকে কোরবানির দিনের ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত এক মুহূর্ত আরাফাতের ময়দানে ইহরাম অবস্থায় অবস্থান করা। তবে শর্ত হলো, এর পূর্বে ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস না করা চাই।

চার. তাওয়াফে জিয়ারতের অধিকাংশ চক্কর যথাসময়ে অর্থাৎ দশম তারিখের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর পালন করা।

হজের ওয়াজিবসমূহ

১. মিকাত থেকে ইহরাম বাধা,

২. সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা,

৩. জিলহজের দশ তারিখে ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে মুজদালিফায় থাকা,

৪. জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা,

৫. হজে কেরান ও হজে তামাত্তু পালনকারীর পশু জবেহ করা,

৬. মাথা মুন্ডানো বা চুল ছোট করা,

৭. মাথা মুন্ডানোর কাজটি হারাম শরিফে এবং কোরবানির দিনগুলোতে সম্পন্ন করা,

৮. মাথা মুণ্ডানোর পূর্বে কঙ্কর নিক্ষেপ করা,

৯. হজে কেরান ও হজে তামাত্তু পালনকারীর কঙ্কর নিক্ষেপ ও মাথা মুণ্ডানোর মধ্যবর্তী সময়ে পশু জবেহ করা,

১০. কোরবানির দিনগুলোতে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করা,

১১. হজের মাসগুলোতে সাফা-মারওয়ার মধ্যখানে সায়ী করা বা দৌঁড়ানো,

১২. গ্রহণযোগ্য তাওয়াফের পর সায়ী করা,

১৩. ওযর ব্যতীত পায়ে হেঁটে সায়ী করা,

১৪. সাফা থেকে সায়ী আরম্ভ করা,

১৫. বিদায়ী তাওয়াফ করা,

১৬. বায়তুল্লাহ শরিফের সবকটি তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু করা,

১৭. ডান দিক থেকে তাওয়াফ শুরু করা,

১৮. ওজর ছাড়া পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করা,

১৯. ছোট-বড় উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা,

২০. সতর ঢাকা,

২১. তাওয়াফে জিয়ারতের অধিকাংশ চক্কর  (কোরবানির দিনগুলোতে) সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট চক্করগুলো সম্পন্ন করা ও

২২. সব ধরনের নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা।

হজ্জের ফযীলত

আল্লাহ তাআলা মুসলিম মিল্লাতের উপর হজ্জ ফরয করেছেন। উদ্দেশ্য স্বীয় বান্দাদের ক্ষমা করে তাদেরকে জান্নাতের সুখময় স্থান দান করা। আর তিনি হজ্জের প্রতিটি কর্ম সম্পাদনের জন্য পৃথক পৃথক ফযীলতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। রাসূল (ছাঃ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে হজ্জের ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। সেগুলো নিম্নে পেশ করা হল।-

হজ্জ পালনকারী নবজাতকের ন্যায় গুনাহমুক্ত

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ حَجَّ لِلَّهِ، فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ، رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ-

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করেছে। যার মধ্যে সে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কার্য করেনি, সে হজ্জ হতে ফিরবে সেদিনের ন্যায় (নিষ্পাপ অবস্থায়) যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন (বুখারী হা/১৫২১; মুসলিম হা/১৩৫০; মিশকাত হা/২৫০৭।)

অর্থাৎ সে কাবীরা-ছাগীরা, প্রকাশ্য-গোপনীয় সকল গুনাহ থেকে ঐরূপ মুক্ত হয়ে ফিরে আসে। যেরূপ একজন শিশু গুনাহ মুক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করে। (ইবনু হাজার, ফাতহুলবারী ৩/৩৮২।)

হজ্জের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُوْرُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ-

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (ছগীরা গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ। আর জান্নাতই হল কবুল হজ্জের একমাত্র প্রতিদান (বুখারী হা/১৭৭৩; মুসলিম হা/১৩৪৯; মিশকাত হা/২৫০৮।)

হজ্জ পূর্ববর্তী গুনাহকে ধ্বংস করে দেয়

عَنِ ابْنِ شَمَاسَةَ الْمَهْرِىِّ، قَالَ حَضَرْنَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، وَهُوَ فِي سِيَاقَةِ الْمَوْتِ، فَبَكَى طَوِيلاً وَحَوَّلَ وَجْهَهُ إِلَى الْجِدَار، وَقَالَ : فَلَمَّا جَعَلَ اللهُ الإِِسْلاَمَ فِيْ قَلْبِيْ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ابْسُطْ يَمِيْنَكَ لأُبَايِعَكَ، فَبَسَطَ يَدَهُ، فَقَبَضْتُ يَدِيْ، فَقَالَ : مَا لَكَ يَا عَمْرُو؟ قَالَ : أَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِطَ، قَالَ : تَشْتَرِطُ مَاذَا؟ قَالَ : أَنْ يُغْفَرَ لِيْ، قَالَ : أَمَا عَلِمْتَ يَا عَمْرُو أَنَّ الإِسْلاَمَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ، وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهَدَّمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا، وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ-

ইবনু শামাসা আল-মাহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা আমর ইবনুল আছ (রাঃ)-এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদলেন এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ যখন আমার অন্তরে ইসলামের অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালাম যে, আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দিন, যাতে আমি বায়আত করতে পারি। রাসূল (ছাঃ) তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু আমি আমার হাত গুটিয়ে নিলাম। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, কি ব্যাপার হে আমর? আমি বললাম, আমি শর্ত করতে চাই। তিনি বললেন, কি শর্ত করতে চাও? আমি বললাম, আল্লাহ যেন আমার (পিছনের সব) গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি বললেন, হে আমর! তুমি কি জান না, ইসলাম তার পূর্বেকার সকল পাপ বিদূরিত করে দেয় এবং হিজরত তার পূর্বেকার সকল কিছুকে বিনাশ করে দেয়। একইভাবে হজ্জ তার পূর্বের সবকিছুকে বিনষ্ট করে দেয়? (মুসলিম হা/১২১; ইবনু হিববান হা/২৫১৫; মিশকাত হা/২৮।)

হাজীর সম্মানে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُلَبِّى إِلاَّ لَبَّى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ أَوْ مَدَرٍ حَتَّى تَنْقَطِعَ الأَرْضُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا-

সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন কোন মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে তখন তার ডান ও বামে পাথর, বৃক্ষরাজি, মাটি সবকিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ঐ প্রান্ত পর্যন্ত (তালবিয়া পাঠকারীদের দ্বারা) পূর্ণ হয়ে যায় (তিরমিযী হা/৮২৮; মিশকাত হা/২৫৫০; ছহীহুল জামে হা/৫৭৭০।)

হজ্জ দরিদ্রতা ও গোনাহ সমূহ বিদূরিত করে

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: تَابِعُوْا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوْبَ كَمَا يَنْفِى الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُوْرَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা হজ্জ ও ওমরাহর মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখো (অর্থাৎ সাথে সাথে কর) কেননা এ দুটি মুমিনের দরিদ্রতা ও গোনাহ সমূহ দূর করে দেয়, যেমন (কামারের আগুনের) হাপর লোহা, স্বর্ণ ও রৌপ্যের ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয় (তিরমিযী হা/৮১০; নাসাঈ হা/২৬৩০; মিশকাত হা/২৫২৪; ছহীহাহ হা/১২০০; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১০৫।)

শ্রেষ্ঠ জিহাদ হজ্জ

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رضى الله عنها قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! أَلاَ نَغْزُوْا وَنُجَاهِدُ مَعَكُمْ؟ فَقَالَ : لَكُنَّ أَحْسَنُ الْجِهَادِ وَأَجْمَلُهُ الْحَجُّ، حَجٌّ مَبْرُوْرٌ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَلاَ أَدَعُ الْحَجَّ بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم-

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না? তিনি বললেন, তোমাদের জন্য উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিহাদ হল হজ্জ, কবূল হজ্জ। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) হতে এ কথা শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ ছাড়ব না (বুখারী হা/১৮৬১; আহমাদ হা/২৫৫৮৪১; মিশকাত হা/২৫৩৪।)

অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হজ্জ

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ سُئِلَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم  أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : إِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ. قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ: جِهَادٌ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ. قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ : حَجٌّ مَبْرُوْرٌ-

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, শ্রেষ্ঠ আমল হল  আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান আনা। বলা হল, তারপর কি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কি? তিনি বললেন, কবুল হজ্জ (বুখারী হা/১৫১৯; মুসলিম হা/৮৩; মিশকাত হা/২৫০৬।)

হাজীগণ আল্লাহর মেহমান

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : وَفْدُ اللهِ ثَلَاثَةٌ: الْغَازِيْ، وَالْحَاجُّ، وَالْمُعْتَمِرُ-

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহর মেহমান। (নাসাঈ হা/২৬২৫; ছহীহুল জামে হা/৭১১২; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১০৯; মিশকাত হা/২৫৩৭।)

ফেরেশতাদের সামনে হাজীদের প্রশংসা

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يَعْتِقَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيْهِ عَبْدًا أَوْ أَمَةً مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِىْ بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ وَيَقُوْلُ مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ؟

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আরাফার দিন ব্যতীত অন্য কোন দিন আল্লাহ এত অধিক পরিমাণ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন না। ঐদিন আল্লাহ নিকটবর্তী হন। অতঃপর আরাফাহ ময়দানের হাজীদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন ও বলেন, দেখ ঐ লোকেরা কি চায়? (মুসলিম হা/১৩৪৮; মিশকাত হা/২৫৯৪; ছহীহাহ হা/২৫৫১।)

হজ্জের নিয়তকারীগণ কোন কারণে হজ্জ করতে সক্ষম না হলেও নেকী পাবে

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:  مَنْ خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا أَوْ غَازِيًا ثُمَّ مَاتَ فِيْ طَرِيْقِهِ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِيْ وَالْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ-

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জ, ওমরাহ কিংবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হল এবং রাস্তায় মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ তার জন্য পূর্ণ নেকী লিখে দিবেন। (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান হা/৪১০০; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১১৪; ছহীহাহ হা/২৫৫৩ ; মিশকাত হা/২৫৩৯।)

হজ্জে মৃত্যুবরণকারীগণ ক্বিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠবে

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَفَةَ، إِذْ وَقَعَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَأَقْصَعَتْهُ أَوْ قَالَ فَأَقْعَصَتْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: اغْسِلُوْهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، وَكَفِّنُوهُ فِىْ ثَوْبَيْنِ، وَلاَ تُحَنِّطُوْهُ وَلاَ تُخَمِّرُوْا رَأْسَهُ، فَإِنَّ اللهَ يَبْعَثُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا-

ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর সঙ্গে আরাফাতে অবস্থান কালে অকস্মাৎ সে তার সওয়ারী হতে পড়ে যান। এতে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, ঘাড় মটকে দিল। (যাতে তিনি মারা গেলেন)। তখন আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দুকাপড়ে তাঁকে কাফন দাও; তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামতের দিন তাঁকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন। (বুখারী হা/১২৬৬; মুসলিম হা/১২০৬; মিশকাত হা/১৬৩৭।)

হাজীদের প্রতিটি পদচারণায় নেকী অর্জিত হয় ও গুনাহ বিদূরীত হয়

عن اِبْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ أُسْبُوْعًا لاَ يَضَعُ قَدَمًا، وَلاَ يَرْفَعُ أُخْرَى، إِلاَّ حَطَّ اللهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيْئَةً، وَكَتَبَ لَهُ بها حسنة، وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً-

 

ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর সাতটি ত্বাওয়াফ করবে, এই সময় প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহ তার জন্য একটি করে নেকী লিখেন এবং একটি গুনাহ বিদূরীত করেন এবং একগুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। (ইবনু হিববান হা/৩৬৯৭; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১৪৩; মিশকাত হা/২৫২৮।)

বায়তুল্লাহ তাওয়াফের ফযীলত

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ-

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে ও শেষে দুই রাকআত ছালাত আদায় করবে, সে যেন একটি গোলাম আযাদ করল। (ইবনু মাজাহ হা/২৯৫৬; ছহীহাহ হা/২৭২৫; ছহীহুল জামে হা/৬৩৭৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১৪২।)

হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার ফযীলত

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مَسْحَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ، وَالرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ يَحُطَّانِ الْخَطَايَا حَطًّا-

ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রুক্নে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পর্শ করবে, এ দুটি তার সমস্ত গোনাহ ঝরিয়ে দিবে। (মুজামুল কাবীর হা/১৩৪৩৮; ছহীহুল জামে হা/২১৯৪।)

উল্লেখ্য, পাথরের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। আমরা কেবলমাত্র রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতের উপর আমল করব। যেমন ওমর ফারূক (রাঃ) উক্ত পাথরে চুমু দেওয়ার সময় বলেছিলেন,

إِنِّىْ لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ مَا تَنْفَعُ وَلاَ تَضُرُّ، وَلَوْلاَ أَنِّيْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عليه وسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ،

আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র। তুমি কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারো না। তবে আমি যদি আল্লাহর রাসূলকে না দেখতাম তোমাকে চুমু দিতে, তাহলে আমি তোমাকে চুমু দিতাম না। (বুখারী হা/১৫৯৭; মুসলিম হা/১২৭০; মিশকাত হা/২৫৮৯।)

যমযমের পানি পান করার ফযীলত :

ত্বাওয়াফ শেষে দুই রাকআত ছালাতান্তে মাত্বাফ থেকে বেরিয়ে পাশেই যমযম কুয়া। সেখানে গিয়ে যমযমের পানি বিসমিল্লাহ বলে দাঁড়িয়ে পান করবে ও কিছুটা মাথায় দিবে। যমযমের পানি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

 خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ، وَفِيهِ طَعَامٌ مِنَ الطُّعْمِ، وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ-

ভূপৃষ্ঠে সেরা পানি হল যমযমের পানি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর খাদ্য এবং রোগ মুক্তি। (ত্বাবারাণী, মুজামুল আওসাত্ব হা/৩৯১২; ছহীহাহ হা/১০৫৬; ছহীহুল জামে হা/৩৩২২।)

বায়তুল্লায় ছালাত আদায়ের ফযীলত

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : صَلاَةٌ فِى مَسْجِدِى أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيْمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلاَةٌ فِى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيْمَا سِوَاهُ-

জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, অন্যত্র ছালাত আদায়ের চেয়ে আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) ছালাত আদায় করা এক হাযার গুণ উত্তম এবং মসজিদুল হারামে ছালাত আদায় করা অন্য মসজিদে ছালাত অপেক্ষা এক লক্ষ গুণ উত্তম। তিরমিযী হা/৩৯১৬; আহমাদ হা/১৪৭৩৫; ইবনু মাজাহ হা/১৪০৪; ছহীহুল জামে হা/৩৮৩৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/১১৭৩।)

সমাপনী

হজ্জ্ব একটি ইবাদত, যা আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করা যায়। তাই প্রত্যেকের হজ পালন করা উচিত। আয়েশা (রা.) হজের বিধান জানার পর কখনো হজ ত্যাগ করেননি। হজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে এর কার্যাবলি সম্পাদন করে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে পৃথক পৃথক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। রাসূল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন-তোমার কষ্ট ও খরচের পরিমাণের ওপর তোমার সওয়াব প্রাপ্তি নির্ভর করবে। [দারা কুতনি, হাদিস নং ২৭৬২]। সুতরাং আমাদের উচিত হজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি সম্পন্ন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এর গুরুত্ব ও ফজিলত বুঝে তদানুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

পিডিএফ ডাউনলোড করুন