মৃত্যু ও পরকালীন জীবন নিয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা

 

মৃত্যু ও পরকালীন জীবন

এই দুনিয়া আমাদের স্থায়ী ঠিকানা নয়, বরং পরকালের এক ক্ষণস্থায়ী পরীক্ষাগার। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলছি। কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে।

অথচ দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা মাটির নিচের অন্ধকার কবর, হাশরের কঠিন ময়দান, মিযানের পাল্লা ও পুলসিরাতের ভয়াবহতার কথা ভুলে যাই। মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ডাক আসতে পারে।

তাই আসুন, গাফিলতি ছেড়ে খাঁটি তাওবা করি এবং নেক আমলের মাধ্যমে পরকালীন সফরের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

মৃত্যু

মৃত্যু জীবনের পরম ও অনিবার্য সত্য। এটি কোনো চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী পরকালের উদ্দেশ্যে যাত্রার একমাত্র প্রবেশদ্বার। নির্দিষ্ট সময় এলে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা সবাইকে দুনিয়ার সব মোহ মায়া ছেড়ে একাকী বিদায় নিতে হয়। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো মৃত্যুর পূর্বে নেক আমলের মাধ্যমে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া।

মৃত্যু অনিবার্য সত্যঃ আল্লাহ তাআলা বলেন,

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ۗ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ

প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম হলো। আর দুনিয়ার জীবন প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)

মৃত্যু আসবেইঃ সূরা নিসায় আল্লাহ তাআলা বলেন,

أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مَّشَيَّدَةٍ

তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেইযদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো। (সূরা আন-নিসা ৪:৭৮)

قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ۖ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বল, 'তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করছ, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে। তারপর তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর সমীপে, অতঃপর তোমরা যা করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। (সূরা আল-জুমু'আ ৬২:৮)

পাপীদের মৃত্যু

وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ المَوْتِ وَالمَلَائِكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ ۖ اليَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ

আর তুমি যদি দেখতে পেতে, যখন যালিমরা মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, তোমাদের প্রাণ বের করো! তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে যে অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার প্রকাশ করতে, তার বিনিময়ে আজ তোমাদের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেওয়া হবে (সূরা আল-আন'আম ৬:৯৩)

জান্নাতিদের মৃত্যু

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ المَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ - نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ    نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ    

নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে বলে, তোমরা ভয় পেও না, চিন্তিতও হয়ো না এবং তোমাদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।' আমরা দুনিয়ার জীবনেও তোমাদের বন্ধু ছিলাম এবং আখেরাতেও থাকব। আর সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা কিছু তোমরা দাবি করবে। এটা পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মেহমানদারী। (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০৩২)

মৃত্যু সৎকাজের পরীক্ষা

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

তিনিই সেই সত্তা যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যেআমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম? আর তিনি পরম পরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল। (সূরা আল-মুলক ৬৭:২)

পরকালীন জীবনের প্রথম ঘাঁটি- কবর

আলমে বরযাখ

لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ

যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি যা আমি ছেড়ে এসেছিলাম। কখনোই নয়; এটি তো কেবল তার একটি কথা যা সে বলছে। আর তাদের সামনে রয়েছে বারযাখ (এক অন্তর্বর্তীকালীন পর্দা) পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠার দিন পর্যন্ত। (সূরা আল-মু'মিনুন ২৩:১০০)

كَانَ عُثْمَانُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ، فَقِيلَ لَهُ: تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ فَلاَ تَبْكِي، وَتَبْكِي مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ»

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) যখন কোনো কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, তখন কাঁদতেনএমনকি (অশ্রুতে) তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, "আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদেন না, অথচ কবরের কাছে এসে কাঁদছেন?"তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কবর হলো আখিরাতের মঞ্জিলগুলোর মধ্যে প্রথম মঞ্জিল। যদি কেউ এখান থেকে মুক্তি পেয়ে যায়, তবে তার পরবর্তী মঞ্জিলগুলো এর চেয়েও সহজ হয়ে যায়। আর যদি সে এখান থেকে মুক্তি না পায়, তবে তার পরবর্তী মঞ্জিলগুলো এর চেয়েও কঠিন হয়ে যায়।" (জামে' আত-তিরমিযী: ২৩০৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭)

খ। কিয়ামত

وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ

তারা আল্লাহকে যথোপযুক্ত সম্মান ও কদর করেনি, অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে তাঁর শরিক করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে। (সূরা আজ-ঝুমার ৩৯:৬৭)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا، ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمَيِّتَ يُبْعَثُ فِي ثِيَابِهِ الَّتِي يَمُوتُ فِيهَا»

হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত: যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন তিনি নতুন কাপড় চাইলেন এবং তা পরিধান করলেন। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে সেই পোশাকেই পুনরুত্থিত করা হবে, যে পোশাকে সে মৃত্যুবরণ করে।" (জামে' আত-তিরমিযী: ২৩০৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৬৭, মুসনাদে আহমাদ: ৪৫৪, মিশকাতুল মাসাবিহ: ১৩২)

গ। হাশর

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تُحْشَرُونَ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيعًا يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ! قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَائِشَةُ، الْأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ»

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদেরকে খালি পায়ে, উলঙ্গ অবস্থায় এবং খাৎনাহীনভাবে (কিয়ামতের মাঠে) একত্রিত করা হবে। আয়েশা (রা.) বললেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! নারী ও পুরুষ সকলেই কি একে অপরের দিকে তাকাবে না?! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আয়েশা! পরিস্থিতি একের অপরের দিকে তাকানোর চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ ও কঠিন হবে।  (সহীহ আল-বুখারী: ৬৫২৭, সহীহ মুসলিম: ২৮৫৯, জামে' আত-তিরমিযী: ৩৩৩৪, সুনানে নাসায়ী: ২০৮৩)

ঘ। হাউজে কাউসার

عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوْضًا، وَإِنَّهُمْ يَتَبَاهَوْنَ أَيُّهُمْ أَكْثَرُ وَارِدَةً، وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ وَارِدَةً»

নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই প্রতিটি নবীর জন্য একটি হাউয (পুকুর/জলাশয়) থাকবে এবং তাঁরা পরস্পরে গৌরব করবেন যে কাদের হাউযে পানির জন্য আগত লোকের সংখ্যা বেশি হয়। আর নিশ্চয়ই আমি আশা করি যে, আমার হাউযেই পানি পানকারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে।(জামে' আত-তিরমিযী: ২৪৪৩, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪৩১৫)

ঙ। বিচার ও হিসেব গ্রহণ

إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ ۝ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم

নিশ্চয়ই আমারই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তাদের হিসাব নেওয়া আমারই দায়িত্ব। (সূরা আল-গাশিয়া ৮৮:২৫২৬)

চ। আমলনামা হস্তান্তর

সবকিছু সূক্ষ্মভাবে হিসাব নেওয়া হবে:

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ۝ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা দেখতে পাবে, আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে তাও দেখতে পাবে। (আল-যালযালাহ ৯৯:৭৮)

আমলনামা পেশ ও কঠিন বিচার:

وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَٰذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا ۚ وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ۗ وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا

আর আমলনামা সামনে রাখা হবে, তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে তার ভিতরের বিষয়বস্তুর কারণে আতঙ্কিত। তারা বলবে, হায়ে আমাদের দুর্ভাগ্য! এটা কেমন আমলনামা, যা ছোট বা বড় কোনো অপরাধকেই বাদ দেয়নি, বরং সব হিসাব করে রেখেছে! তারা যা যা করেছিল তা সামনে উপস্থিত পাবে। আর তোমার রব কারও ওপর অন্যায় করবেন না। (সূরা আল-কাহফ ১৮:৪৯)

সহজ হিসাব ও কঠিন হিসাব:

فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ ۝ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا ۝ وَيَنقَلِبُ إِلَىٰ أَهْلِهِ مَسْرُورًا ۝ وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ ۝ فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا

যার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে, তার হিসাব সহজ করা হবে এবং সে তার স্বজনদের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে। আর যার আমলনামা তার পিঠের পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে, সে ধ্বংসকে ডাকবে।

(সূরা আল-ইনশিক্বাক্ব ৮৪:৭১১)

পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত পা সরবে না:

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ: عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ»

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত আদম সন্তানের দুই পা তার রবের নিকট থেকে নড়তে পারবে না: ১. তার বয়স সম্পর্কেকিসে তা নিঃশেষ করেছে, ২. তার যৌবন সম্পর্কেকিসে তা ক্ষয় করেছে, ৩. তার ধন-সম্পদ সম্পর্কেকোথা থেকে তা উপার্জন করেছে এবং ৪. কোথায় তা ব্যয় করেছে, এবং ৫. যা অর্জিত জ্ঞান ছিল সে অনুযায়ী কী আমল করেছে।(জামে' আত-তিরমিযী: ২৪১৬)

বান্দার সাথে সরাসরি কথা বলা ও বিচার:

عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ، لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانٌ»

আদী ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার সাথে তার রব সরাসরি কথা বলবেন না, তখন তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী বা অনুবাদক থাকবে না।(সহীহ আল-বুখারী: ৭৪৪৩, সহীহ মুসলিম: ১০১৬)

ছ। ফুলসিরাত

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّاسَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟... (إِلَى أَنْ قَالَ): «وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُ، وَلاَ يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ الرُّسُلُ، وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ: اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ»

আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব?... (বর্ণনার একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেন):

...এবং জাহান্নামের পিঠের ওপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। তখন আমি ও আমার উম্মতই প্রথম তা অতিক্রম করব। সেদিন রসূলগণ ছাড়া কেউ কোনো কথা বলবে না, আর সেদিন রসূলগণের দুআ হবে: হে আল্লাহ! নিরাপদে পার করো, নিরাপদে পার করো (সহীহ মুসলিম, ১৮২; সহীহ আল-বুখারী, হাদিস নং: ৮০৬)

জ। জান্নাত

মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতের বিবরণ:

مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى

মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার দৃষ্টান্ত হলো: তাতে রয়েছে অবিশুদ্ধতাহীন পানির নহরসমূহ, স্বাদের পরিবর্তন হয়নি এমন দুধের নহরসমূহ, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নহরসমূহ এবং পরিশোধিত মধুর নহরসমূহ... (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:১৫)

কল্পনার অতীত নিয়ামত:

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অতঃপর কোনো প্রাণীই জানে না তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ। (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১৭)

চোখ যা দেখেনি, কান যা শোনেনি:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «قَالَ اللَّهُ: أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ»

আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে তার কল্পনাও আসেনি।(সহীহ আল-বুখারী: ৩২৪৪, সহীহ মুসলিম: ২৮২৪)

জান্নাতবাসীদের জন্য চূড়ান্ত নিয়ামত (আল্লাহর দর্শন):

عَنْ صُهَيْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضْ وُجُوهَنَا؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ، فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ»

সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কি চাও আমি তোমাদের আরও কিছু বাড়িয়ে দিই? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেননি? আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? তখন আল্লাহ পর্দা উন্মোচন করে দেবেন। ফলে জান্নাতীদের কাছে তাদের মহান রবের দর্শনের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কিছুই হবে না।(সহীহ মুসলিম: ১৮১)

ঝ। জাহান্নাম

জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা ও জ্বালানি:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে কঠোর হৃদয়, নির্দয় ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তা-ই করে। (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬)

জাহান্নামীদের পোশাক ও শাস্তি:

فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّن نَّارٍ يُصَبُّ مِن فَوْقِ رُؤُوسِهِمُ الْحَمِيمُ ۝ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ ۝ وَلَهُم مَّقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ

...অতএব যারা কুফরী করে, তাদের জন্য কাটা হবে আগুনের পোশাক; তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি। যা দিয়ে তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চামড়াসমূহ গলিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ি। (সূরা আল-হাজ্জ ২২:১৯২১)

চামড়া নতুন করে বদলে দেওয়া:

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُم بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ

নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, আমি অচিরেই তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করাব। যখনই তাদের চামড়া পুড়ে গলে যাবে, তখনই আমি তার জায়গায় অন্য চামড়া বদলে দেব, যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। (সূরা আন-নিসা ৪:৫৬)

দুনিয়ার আগুন ও জাহান্নামের আগুনের তুলনা:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «نَارُكُمْ هَذِهِ الَّتِي يُوقِدُ ابْنُ آدَمَ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ حَرِّ جَهَنَّمَ»

আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের এই আগুনযা আদম সন্তান জ্বালায়, তা জাহান্নামের উত্তাপের ৭০ ভাগের এক ভাগ মাত্র।(সহীহ আল-বুখারী: ৩২৬৫, সহীহ মুসলিম: ২৮৪৩)

জাহান্নামের সর্বনিম্ন শাস্তি:

عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَرَجُلٌ، تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ، يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ»

নু'মান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তি দেওয়া হবে সেই ব্যক্তিকে, যার দুই পায়ের তলার নিচে দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে এবং তাতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে।(সহীহ আল-বুখারী: ৬৫৬১, সহীহ মুসলিম: ২১৩)

জাহান্নামের গভীরতা:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ سَمِعَ وَجْبَةً، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَدْرُونَ مَا هَذَا؟» قَالَ: قُلْنَا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «هَذَا حَجَرٌ رُمِيَ بِهِ فِي النَّارِ مُنْذُ سَبْعِينَ خَرِيفًا، فَهُوَ يَهْوِي فِي النَّارِ الآَنَ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى قَعْرِهَا»

আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, এমন সময় একটি বিকট শব্দ শোনা গেল। নবী (সা.) বললেন, তোমরা কি জানো এটা কিসের শব্দ? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটি একটি পাথর, যা সত্তর বছর আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তা এতোদিন ধরে নিচের দিকে যাচ্ছিল এবং এখন জাহান্নামের তলদেশে গিয়ে পৌঁছেছে।(সহীহ মুসলিম: ২৮৪৪)

সমাপনীঃ

মৃত্যু মানবজীবনের কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়; বরং তা পার্থিব জীবন থেকে অনন্ত পরকালীন জীবনে প্রবেশের একটি সেতু মাত্র। দুনিয়ার এ ক্ষণস্থায়ী জীবন হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (মাজরাআতুল আখিরাত), যেখানে প্রতিটি মানুষের ঈমান, কর্ম ও আচরণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে তার চিরন্তন গন্তব্য।

যারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস রেখে সৎকর্মের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করবে, পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অসীম নিয়ামতে ভরা জান্নাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। অন্যদিকে, সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও অন্যায়ে নিমজ্জিতদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো মৃত্যুর আগমন ও কিয়ামতের জবাবদিহিতার পূর্বেই তাওবা, ইবাদত এবং সৎকাজের মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা।

"প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন নিজেদের পূর্ণ প্রতিদান পাবে।" (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)


Powered by Blogger.