তাওবা ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
![]() |
| তাওবা ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা |
মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে কোনো অন্যায়
বা পাপ কাজ সংগঠিত হওয়ার পর অনুতপ্ত হয়ে সে কাজ থেকে প্রত্যাবর্তন করা এবং ভবিষ্যতের
জন্য ন্যায় ও সৎ কাজের সংকল্প করাই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এর পাশাপাশি পূণ্যের
কাজ দ্বারা বিগত পাপ কাজের ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করাও তার কর্তব্য।ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অপরাধ
হয়ে গেলে মানুষের করণীয় কী, আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে অবহিত করেছেন। বান্দা
যত পাপই করুক না কেন, আল্লাহর কাছে যথা নিয়মে ক্ষমা চাইলে তিনি তা ক্ষমা করেন। আর
অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা পাওয়ার এই আত্মিক পরিবর্তনের নামই হলো
তাওবা।
তাওবা
কি
‘তাওবা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ফিরে আসা। ইসলামী পরিভাষায়,
যেসব কথা ও কাজ মানুষকে
আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা থেকে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও
নৈকট্য অর্জনকারী কাজের দিকে ফিরে আসাকে তাওবা বলে। এক কথায়,
পাপ কর্ম পরিত্যাগ
করে সৎকাজে প্রবৃত্ত হওয়াই তাওবা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা।”
(ইবনে মাজাহ)
পাপ
বা অপরাধের প্রকারভেদ
মানুষের জীবনে সংঘটিত পাপ বা অপরাধ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে:
Ø ১। আল্লাহর হক সম্পর্কিত পাপ: যে অপরাধগুলো সরাসরি আল্লাহর অধিকার বা বিধানের সাথে জড়িত। যেমন—শিরক করা, সালাত আদায় না করা, মদ্যপান করা কিংবা সুদের লেনদেন করা।
Ø ২। বান্দার হক সম্পর্কিত পাপ: যে অপরাধগুলোর কারণে অন্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা হকের শিকার হয়। যেমন—জুলুম-অত্যাচার, চুরি-ডাকাতি, ঘুষ খাওয়া কিংবা অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা।
তাওবাহ করার শর্তসমূহ
অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাওবা কবুল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত
পূরণ করতে হয়:
প্রথম প্রকার পাপের
(আল্লাহর হক) ক্ষেত্রে শর্ত ৩টি:
১. পাপ কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ পরিহার করা।
২. কৃত পাপের জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া।
৩. ভবিষ্যতে এই পাপ আর কখনো না করার জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।
দ্বিতীয় প্রকার
পাপের (বান্দার হক) ক্ষেত্রে শর্ত ৪টি:
১. পাপ কাজটি অবিলম্বে বর্জন করা।
২. অন্যায় কাজের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত
হওয়া।
৩. ভবিষ্যতে এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করার
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির
হক ফিরিয়ে দেওয়া: যার অধিকার খর্ব করা হয়েছে তার পাওনা বা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া অথবা
তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। পাপের কারণে যে
মানুষটির অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে বা যে লোকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার
পাওনা পরিশোধ করা বা যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে তার সাথে মিটমাট করে নেওয়া অথবা তার
কাছে ক্ষমা চেয়ে দাবি ছাড়িয়ে নেওয়া।
তাওবার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন মাজিদে তাঁর বান্দাদেরকে বারবার তাওবা
করার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন।
১.
তাওবা কবুলকারী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ
غَافِرِ
الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ ۖ لَا إِلَٰهَ
إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ
তিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী,
কঠোর শাস্তি দাতা,
সামর্থ্যবান ও অনুগ্রহের
অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তাঁর দিকেই সবার প্রত্যাবর্তন। (সূরা
গাফির ৪০:৩)
২.
তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান
أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ
وَيَسْتَغْفِرُونَهُ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
সুতরাং তারা কি আল্লাহর নিকট তাওবা করবে না এবং তাঁর নিকট ক্ষমা
চাইবে না? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা
আল-মায়িদাহ ৫:৭৪)
৩.
আল্লাহর দয়া ও স্নেহের নিশ্চয়তা
وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ
تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ
আর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই
দিকে ফিরে এসো (তাওবা করো);নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা পরম দয়ালু,
অতি স্নেহময়। (সূরা হুদ ১১:৯০)
৪.
ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ
وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ
اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
এবং আল্লাহর কাছে তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো,
নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা
আন-নিসা ৪:১০৬)
৫.
খাঁটি তাওবার মাধ্যমে পাপ মোচন
يَا
أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَىٰ
رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর সমীপে খাঁটি তাওবা করো। আশা করা
যায় তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন।
(সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৮)
৬.
আল্লাহর ক্ষমা ও শাস্তির ঘোষণা
نَبِّئْ
عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ * وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ
الْأَلِيمُ
আমার বান্দাদের জানিয়ে দাও যে,
নিশ্চয়ই আমি বড়ই
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর আমার শাস্তিই হচ্ছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(সূরা আল-হিজর ১৫:৪৯-৫০)
৭.
সংশোধন ও তাওবা গ্রহণ
وَاللَّذَانِ
يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ فَآذُوهُمَا ۖ فَإِن تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا
عَنْهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়,
তাদেরকে তোমরা শাস্তি
দাও। অতঃপর যদি তারা তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়,
তবে তাদের থেকে মুখ
ফিরিয়ে নাও (শাস্তি বন্ধ করো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী,
পরম দয়ালু। (সূরা আন-নিসা ৪:১৬)
৮.
তাওবা কবুল ও সদাকা গ্রহণকারী আল্লাহ
أَلَمْ
يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ
الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তারা কি জানে না যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল
করেন এবং সদাকা গ্রহণ করেন? আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী,
পরম দয়ালু। (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১০৪)
৯.
বান্দার তাওবা গ্রহণ ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহ
وَهُ(وَ
الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ
وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনি তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন,
পাপসমূহ ক্ষমা করে
দেন এবং তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন। (সূরা
আশ-শূরা ৪২:২৫)
তাওবার ব্যাপারে রাসূলের নির্দেশ
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) নিজে আল্লাহর দরবারে তাওবা করেছেন এবং তাঁর
উম্মতদেরকে তাওবার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
১.
প্রতিদিন ১০০ বার তাওবা করার নির্দেশ
يَا
أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ
مِائَةَ مَرَّةٍ
হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো। কেননা আমি আল্লাহর
নিকট প্রতিদিন একশত বার তাওবা করে থাকি। (সহীহ
মুসলিম ২৬৭৮)
২.
প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইস্তিগফার
وَاللَّهِ
إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ
سَبْعِينَ مَرَّةً
আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও অধিক তাওবা
ও ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি। (সহীহ
বুখারী ৬৩০৭)
৩.
মানুষের লোভ এবং তাওবাকারীর প্রতি আল্লাহর দয়া
لَوْ كَانَ
لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى ثَالِثًا، وَلَا يَمْلأُ جَوْفَ
ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ، وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ
যদি আদম সন্তানের দুই উপত্যকা ভরা ধন-সম্পদ থাকে,
তবুও সে তৃতীয় একটির
আকাঙ্ক্ষা করবে। আর মাটি ছাড়া আদম সন্তানের পেট আর কিছুতেই ভরবে না। আর যে তাওবা করবে,
আল্লাহ তার তাওবা
কবুল করবেন। (সহীহ বুখারী ৬৪৩৬)
যাদের তাওবা কবুল হবে না
১.
যারা শিরক বা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে
إِنَّ
اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن
يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর
সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে অবশ্যই মহাপাপ রচনা করে। (সূরা আন-নিসা ৪:৪৮)
২.
মুনাফিকি যাদের ঈমান ও আকিদাহে মিশে আছে
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ
الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা
জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। আর তুমি কখনো তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে
না। (সূরা
আন-নিসা ৪:১৪৫)
سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ
لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرُ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
তুমি তাদের জন্য
ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো, উভয়টিই তাদের ক্ষেত্রে
সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। (সূরা আল-মুনাফিকুন ৬৩:৬)
৩.
কুফুরী ও জুলুমের ওপর অবিচল সীমালঙ্ঘনকারী
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَظَلَمُوا
لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا
নিশ্চয়ই যারা কুফুরী
করেছে এবং জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনো
ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথ দেখাবেন না। (সূরা আন-নিসা ৪:১৬৮)
৪.
যারা বারবার ঈমান আনার পর পুনরায় কুফুরী করে
إِنَّ
الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا
كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًا
নিশ্চয়ই যারা ঈমান
এনেছে তারপর কুফুরী করেছে, আবার ঈমান এনেছে
তারপর কুফুরী করেছে এবং এর পর কুফুরীকে বাড়িয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন
করবেন না। (সূরা আন-নিসা ৪:১৩৭)
إِنَّ
الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّن تُقْبَلَ
تَوْبَتُهُمْ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الضَّالُّونَ
নিশ্চয়ই যারা ঈমান
আনার পর কুফুরী করেছে, তারপর তারা কুফুরীতে
আরও বেড়ে গিয়েছে, তাদের তাওবা কখনো
কবুল করা হবে না। আর তারাই হলো প্রকৃত পথভ্রষ্ট। (সূরা আল-ইমরান ৩:৯০)
৫.
কুফুরী বা কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করা
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا
عَن سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ مَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
নিশ্চয়ই যারা কুফুরী
করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, তারপর কাফির অবস্থায় মারা গেছে, আল্লাহ কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:৩৪)
৬.
মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তি ও কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী
وَلَيْسَتِ
التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ
أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ
وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
আর এমন লোকদের জন্য কোনো তাওবা নেই যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,
এমনকি যখন তাদের
কারো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলতে থাকে, "আমি এখন তাওবা করছি।" আর তাদের জন্যও
তাওবা নেই, যারা কুফুরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি। (সূরা আন-নিসা ৪:১৮)
৭.
পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়ার পর (কিয়ামতের ঠিক পূর্বে)
لَا
تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتَّىٰ تَنْقَطِعَ التَّوْبَةُ، وَلَا تَنْقَطِعُ
التَّوْبَةُ حَتَّىٰ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
তাওবার দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত বন্ধ হবে না। আর সূর্য
যে পর্যন্ত পশ্চিম আকাশে উদিত না হবে, সে পর্যন্ত তাওবার দরজা বন্ধ হবে না। (সুনানে
আবু দাউদ ২:২৪৭৯)
مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ
الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ
যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে তাওবা করবে,
আল্লাহ তাআলা তার
তাওবা কবুল করবেন। (সহীহ মুসলিম ৪:২৭০৩)
৮.
মৃত্যুযন্ত্রণা বা প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছার সময়
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقْبَلُ
تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রাণ কণ্ঠনালীতে না পৌঁছা (গরগরা
শুরু না হওয়া) পর্যন্ত তার তাওবা কবুল করেন। (সুনানে
ইবনে মাজাহ ২:৪২৫৩)
حَتَّىٰ
إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ آمَنتُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا الَّذِي
آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
এমনকি যখন সে (ফেরাউন) ডুবতে আরম্ভ করল,
তখন বলল,
"এখন আমি বিশ্বাস
করছি যে, বনী-ইসরাঈলরা যাঁর ওপর ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া কোনো মাবূদ নেই।
আর আমিও তাঁরই অনুগতদের (মুসলিমদের) অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা
ইউনুস ১০:৯০)
যাদের তাওবা কবুল হবে
১.
অজ্ঞতাবশত ভুল করে অনতিবিলম্বে তাওবাকারী
إِنَّمَا
التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ
يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ
اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ
করে, অতঃপর
অনতিবিলম্বে তাওবা করে; এরাই হলো সে সব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী
ও প্রজ্ঞাময়।(সূরা আন-নিসা ৪:১৭)
তাওবার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
১.
দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি লাভ
فَأَمَّا
مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَىٰ أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
অতঃপর যে তাওবা করেছে,
ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম
করেছে, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত
হবে। (সূরা
আল-কাসাস ২৮:৬৭)
إِلَّا مَن
تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا
يُظْلَمُونَ شَيْئًا
তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে;
তারাই জান্নাতে প্রবেশ
করবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না। (সূরা মারিয়াম ১৯:৬০)
২.
জান্নাত লাভ ও আল্লাহর দয়া
يَضْحَكُ
اللَّهُ إِلَىٰ رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ يَدْخُلَانِ الْجَنَّةَ:
يُقَاتِلُ هَٰذَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلُ، ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى
الْقَاتِلِ فَيُسْتَشْهَدُ
দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আল্লাহ হাসেন (খুশি হন), যারা একে অপরকে হত্যা করার পরও উভয়ই জান্নাতবাসী হবে। একজন তো
এ কারণে জান্নাতবাসী হবে যে, সে আল্লাহর রাস্তায়
জিহাদ করে শহীদ হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা হত্যাকারীর তাওবা কবুল করেছেন এবং সেও (ইসলাম
গ্রহণ করে) আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। (সহীহ বুখারী ৪:২৮২৬)
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا
أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে তাওবা করো (ফিরে এসো), যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)
৩.
গুনাহ বিদূরণ ও মিটিয়ে দেওয়া
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا
ذَنْبَ لَهُ
গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি সেই লোকের মতো, যার কোনো গুনাহই নেই। (সুনানে ইবনে মাজাহ ২:৪২৫০)
إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَا
السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ
নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের
জন্য একটি মহৎ উপদেশ। (সূরা হুদ ১১:১১৪)
৪.গুনাহকে নেকীতে রূপান্তর
إِلَّا مَن
تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ
سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
তবে যারা তাওবা করে,
ঈমান আনে এবং সৎকর্ম
করে; আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন
করে দেবেন। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আল-ফুরক্বন ২৫:৭০)
৫.
অন্তরকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করা
إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ
صَغَتْ قُلُوبُكُمَا
যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করো (তবে তা তোমাদের জন্য
উত্তম), কারণ তোমাদের উভয়ের অন্তর সত্য থেকে কিছুটা
বিচ্যুত হয়েছে। (সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৪)
إِنَّ
الْعَبْدَ إِذَا أَخْطَأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ،
فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ صُقِلَ قَلْبُهُ، وَإِنْ عَادَ زِيدَ
فِيهَا حَتَّىٰ تَعْلُوَ قَلْبَهُ، وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ:
كَلَّا ۖ بَلْ ۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
বান্দা যখন একটি গুনাহ
করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর
যখন সে গুনাহের কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা
করে এবং তাওবা করে, তখন তার অন্তর পরিষ্কার
ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর কালো
দাগে ঢেকে যায়। এটিই সেই মরিচা আল্লাহ তাআলা যার বর্ণনা করেছেন: "কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়েছে।" (জামে তিরমিজি ৫:৩৩৩৪)
৬.
সুন্দর ও উত্তম জীবনের নিশ্চয়তা
وَأَنِ
اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا
إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى
আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তারপর তাঁর কাছে তাওবা করো;
তিনি তোমাদেরকে এক
নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন। (সূরা হুদ ১১:৩)
৭.
দোয়া কবুলের মাধ্যম
فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا
إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ
সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো আর তাঁর নিকটেই
তাওবা করো; নিশ্চয়ই আমার রব খুব কাছেই আছেন এবং তিনি
ডাক সাড়া প্রদানকারী (দোয়া কবুলকারী)। (সূরা হুদ ১১:৬১)
৮.
বৃষ্টি বর্ষণ এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি
وَيَا
قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ
عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا
تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ
হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
করো, তারপর তাঁর নিকট তাওবা করো। তিনি তোমাদের
ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরও শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর
তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না। (সূরা হুদ ১১:৫২)
৯.
রিযিক, ধন-সম্পদ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
فَقُلْتُ
اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم
مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ
وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
আমি বলেছি,
"তোমাদের
রবের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি পরম
ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মূষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও
সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা ও নদী-নালা তৈরি করে
দেবেন।" (সূরা নূহ ৭১:১০-১২)
১০.
বিপদ-আপদ দূরকরণ
وَمَا
كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ
مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
অথচ আল্লাহ এমন নন যে,
তিনি তাদেরকে আযাব
দেবেন এমতাবস্থায় যে তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান;
এবং আল্লাহ তাদেরকে
আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে। (সূরা আল-আনফাল ৮:৩৩)
১১.
অশেষ কল্যাণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ
مَنْ
لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَمِنْ
كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে, আল্লাহ তাকে প্রত্যেক সংকীর্ণতা থেকে মুক্তির পথ করে দেবেন, সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক
দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সুনানে আবু দাউদ ১:১৫১৮)
১২.
আল্লাহর ভালোবাসা লাভ ও তাঁর আনন্দ
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ
وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও
ভালোবাসেন। (সূরা বাকারা ২:২২২)
لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ
مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلَاةٍ
আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবার কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি
হন, যে লোকটি মরুভূমিতে নিজের হারিয়ে যাওয়া উটটি
আকস্মিকভাবে ফিরে পায়। (সহীহ বুখারী ৪:৬৩০৯)
১৩.
পাপ মুক্তির খাঁটি উপায় ও কর্ম সংশোধন
إِلَّا مَن
تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ
سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا... رَّحِيمًا * وَمَن تَابَ
وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا
কিন্তু যারা তাওবা করে,
ঈমান আনে এবং সৎকর্ম
করে; আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন
করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যারা
তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, তারা প্রকৃতপক্ষে
আল্লাহর দিকেই সুন্দরভাবে প্রত্যাবর্তন করে। (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭০-৭১)
إِلَّا
الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَٰئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۚ
وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
কিন্তু যারা তাওবা করে,
নিজেদের সংশোধন করে
নেয় এবং (সত্যকে) স্পষ্ট করে প্রকাশ করে,
আমি তাদের তাওবা
কবুল করব। আর আমিই একমাত্র তাওবা কবুলকারী,
পরম দয়ালু। (সূরা বাকারা ২:১৬০)
إِلَّا
الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ
لِلَّهِ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ
الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
অবশ্য যারা তাওবা করে নিয়েছে,
নিজেদের অবস্থার
সংশোধন করেছে, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং আল্লাহর
জন্য নিজেদের দ্বীনকে খাঁটি করেছে;
তারা মুমিনদের সাথে
থাকবে। আর আল্লাহ শীঘ্রই মুমিনদেরকে মহাপুরস্কার দান করবেন। (সূরা আন-নিসা ৪:১৪৬)
فَمَن
تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ ۗ إِنَّ
اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর যে ব্যক্তি তার অন্যায়ের পর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন
করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই
আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩৯)
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ
وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ
আর নিশ্চয়ই আমি পরম ক্ষমাশীল সেই ব্যক্তির জন্য, যে তাওবা করে,
ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং সৎপথে অবিচল থাকে। (সূরা ত্বহা ২০:৮২)
১৪.
আসমান পরিমাণ গুনাহও ক্ষমার ঘোষণা (হাদীসে কুদসী)
قَالَ
اللَّهُ تَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي
غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ
بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ
وَلَا أُبَالِي، يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ
خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا
مَغْفِرَةً
মহান আল্লাহ বলেন: হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং
আমার প্রতি আশাবাদী থাকবে, তোমার থেকে যত গুনাহই
প্রকাশ পাক না কেন, আমি তোমাকে ক্ষমা
করে দেব, আমি কোনো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার
গুনাহ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্তও পৌঁছে যায়,
অতঃপর তুমি আমার
কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, আমি কোনো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ
গুনাহ নিয়েও আমার দরবারে উপস্থিত হও এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাকো, তবে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে হাজির হব। (জামে তিরমিজি ৫:৩৫৪০)
১৫.
আল্লাহর রহমত ও দয়া লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়
لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ
لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
তোমরা কেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া ও রহমত করা হয়? (সূরা আন-নামল ২৭:৪৬)
১৬.
তাওবাকারীই মানবজাতির মধ্যে উত্তম
كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ
الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
সমস্ত আদম সন্তানই ভুলকারী (গুনাহগার)। আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা বেশি বেশি তাওবা করে। (সুনানে ইবনে মাজাহ ২:৪২৫১)
তাওবার কবুল হওয়ার সময়
তাওবার সময়সমূহ নিম্নরূপ:
১.
গুনাহের সাথে সাথে অনতিবিলম্বে তাওবা করা
إِنَّمَا
التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ
يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ
اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
অনুবাদ: অবশ্যই আল্লাহ
তাদের তাওবা কবুল করবেন যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে; এরাই হলো সে সব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।
(সূরা আন-নিসা ৪:১৭)
مَا مِنْ
عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي
رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، ثُمَّ
قَرَأَ هَٰذِهِ الْآيَةَ: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا
أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
অনুবাদ: যখন কোনো
বান্দা কোনো গুনাহ করার পর উত্তমরূপে উজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং
আল্লাহর নিকট সেই গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রমাণ হিসেবে এই আয়াত
তিলাওয়াত করেন: "আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে
স্মরণ করে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। (সুনানে আবু দাউদ ১:১৫২১) / (সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৫)
২.
সকাল-সন্ধ্যা ও দিন-রাত ক্ষমা প্রার্থনা
إِنَّ
اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ،
وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّىٰ تَطْلُعَ
الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
অনুবাদ: নিশ্চয়ই
আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর কুদরতী হাত সম্প্রসারিত করেন যেন দিনের অপরাধী রাতে তাওবা করে।
এবং তিনি দিনে তাঁর হাত সম্প্রসারিত করেন যেন রাতের অপরাধী দিনে তাওবা করে। (এই নিয়ম
চলতেই থাকবে) যে পর্যন্ত না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। (সহীহ মুসলিম ৪:২৭৫৯)
৩.
মানুষের প্রতি জুলুম বা অবিচার করার পর তাওবা
إِنَّ
الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا
فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই
যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে নির্যাতন করেছে, তারপর তাওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে
জাহান্নামের আযাব; আর তাদের জন্য রয়েছে
অগ্নিকুণ্ডের দহন আযাব। (সূরা আল-বুরুজ ৮৫:১০)
তাওবা কবুলের শর্ত
১.
আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ না হওয়া
قُلْ يَا
عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ
اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ
الرَّحِيمُ
বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ
ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আজ-জুমার ৩৯:৫৩)
২.
পাপের আন্তরিক স্বীকারোক্তি দেওয়া
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ
ثُمَّ تَابَ، تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ
বান্দা যখন নিজের
গুনাহ স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। (সহীহ বুখারী ৫:৪১৪১) / (মিশকাত ১:২৩৩০)
তাওবা না করার পরিণাম
ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব
১.
আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আবশ্যকতা
وَالَّذِي
نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ وَلَجَاءَ
بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لهمْ
সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা যদি পাপ না করতে, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে এমন এক সম্প্রদায়ের
আগমন ঘটাতেন যারা পাপ করত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত, আর তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (সহীহ মুসলিম ৪:২৭৪৯)
আত্মশুদ্ধি বা তাযকিয়ায়ে
নফস
গুনাহের জন্য অনুতপ্ত
হয়ে ক্ষমা পেতে চাইলে তাওবা করতে হবে। আর দেহ-মনকে আল্লাহর অবাধ্যতা হতে পরিচ্ছন্ন
রেখে গুনাহমুক্ত ও পরিশুদ্ধ অন্তঃকরণ অর্জনের নামই তাযকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি।
১.
নফসের পরিশুদ্ধির মাধ্যমে সাফল্য লাভ
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا * وَقَدْ
خَابَ مَن دَسَّاهَا
নিঃসন্দেহে সে সফলকাম
হয়েছে,
যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে। এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তা (নফস) কে কলুষিত করেছে। (সূরা আশ-শামস ৯১:৯-১০)
أَلَا
وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا
فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
জেনে রাখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন নষ্ট হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেই গোশতের টুকরোটি হলো কলব (অন্তর)। (সহীহ বুখারী ১:৫২)
দৈহিক ও মানসিক পরিশুদ্ধির
জন্য করণীয়
১.
আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেওয়া
يَا
أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ
لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ
وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা
আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে
এমন কিছুর প্রতি আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার কলবের মাঝে অন্তরায় হন এবং নিশ্চয়ই
তোমাদেরকে তাঁর নিকট সমবেত করা হবে। (সূরা আল-আনফাল ৮:২৪)
২.
আখিরাতের চিন্তা ও সুস্থ অন্তরের গুরুত্ব
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا
بَنُونَ * إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
সেদিন ধন-সম্পদ ও
সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ ও পবিত্র অন্তর নিয়ে। (সূরা আশ-শুআরা ২৬:৮৮-৮৯)
৩.
আল্লাহর স্মরণে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ
قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা ঈমান আনে এবং
আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই কেবল অন্তরসমূহ
প্রশান্ত হয়। (সূরা
আর-রাদ ১৩:২৮)
৪.
কবর যিয়ারত ও মৃত্যুর স্মরণ
كُنْتُ
نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، فَإِنَّهَا تُزْهِدُ فِي
الدُّنْيَا وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَ
আমি তোমাদেরকে কবর
যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ তা দুনিয়াবিমুখ বানায়
এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১:১৫৭১)
৫.
অন্তরের কঠোরতা বা কঠিন হৃদয় পরিহার করা
فَوَيْلٌ
لِّلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
ধ্বংস সেই সব লোকদের
জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে। তারা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত।
(সূরা আজ-জুমার ৩৯:২২)
وَإِنَّ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنَ
اللَّهِ الْقَلْبُ الْقَاسِي
আর নিশ্চয়ই আল্লাহ
তাআলা হতে সবচেয়ে দূরবর্তী ব্যক্তি হচ্ছে কঠোর বা শক্ত হৃদয়সম্পন্ন ব্যক্তি। (জামে তিরমিজি ৪:২৪১১) / (মিশকাত
১:২২৭৬)
৬.
অন্তর সুদৃঢ় রাখার জন্য দুআ করা
كَانَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ: يَا
مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبَتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
এই দুআটি অধিক পাঠ করতেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের
ওপর অবিচল ও প্রতিষ্ঠিত রাখো।" (জামে তিরমিজি ৪:২১৪০)
৭.
গুনাহকে কখনো ছোট মনে না করা
إِنَّ
الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ
عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ
ঈমানদার ব্যক্তি
তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নিচে বসে আছে এবং আশঙ্কা করছে যে পর্বতটা তার ওপর ধ্বসে পড়বে।
আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকের ওপর দিয়ে উড়ে চলে যায়। (সহীহ বুখারী ৬:৬৩০৮)
উপসংহার
কোনো মানুষই মানবিক
দুর্বলতা বা ত্রুটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে নয়। শয়তানি কুমন্ত্রণায় পড়ে মানুষের দ্বারা পাপ
বা গুনাহের কাজ হতেই পারে। এই অবস্থায় একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব হলো কৃত পাপের জন্য
আল্লাহর কাছে অনতিবিলম্বে তাওবা করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এবং বেশি বেশি নেক আমল করা। একই
সাথে নিজের আত্মশুদ্ধি তথা তাযকিয়ায়ে নফসের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। আল্লাহর কোনো
বান্দা তার পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন এবং তাকে ক্ষমা
করে দেন। এজন্য সকল মুমিনকে কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি পবিত্র ও পাপমুক্ত জীবনযাপন
করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হয়।
